মুক্তমনের মুক্তধারা

 


আসুন , খোলা মনে কিছু কথা হোক। কথা শুধু কথা‌ নয় । কথা এক বহতা জীবন । জীবনের অভিমুখ আলো চায়। আলো কথা বয়ে আনে ।কথা হাঁটতে চায় । ছুটতে চায় । মিশতে চায় । মিলতে চায় । সবকটি চাওয়া মিলে গেলে জন্ম নেয়‌ সংলাপ। সংলাপ কেবল সংলাপ নয় । সংলাপ এক দ্বান্দ্বিক জীবন। দ্বন্দ্ব হল বস্তুর অন্তর্নিহিত ধর্ম । দ্বন্দ্বের অভিজ্ঞান দৃশ্যের জন্ম দেয় । দৃশ্য নিহিত দর্শন ইতিহাস নির্মাণ করে ।এক চলমান ইতিহাস। থিয়েটার এই চলমান ইতিহাসকে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় । থিয়েটার তাই শুধু দেখার জিনিস নয় । যাপনের জিনিস । বৌদ্ধিক অনুশীলনের জিনিস। এক তুমুল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অভিযোজনের জিনিস। বেঁচে থাকার আর এক নাম অভিযোজন । অভিযোজন ঋদ্ধ গুণগত ও পরিমাণগত পরিবর্তনের নামই হলো বিপ্লব । জীবনের থিয়েটার আসলে কোনো না কোনো ভাবে বিপ্লবী থিয়েটার । সদর্থক থিয়েটার । যে থিয়েটার কথনও আপোস করে না । উত্তরণের হদিশ দেখায় । সমূহ সংগ্ৰামে আলো দেখায় । আসুন , দেখা হবে আলোর মঞ্চে । ৭-ই এপ্রিল, রবিবার। ঠিক বিকাল পাঁচটায়।
(ইন্দ্রজিৎ ঘোষ/মানবিক নাট্যগোষ্ঠী) ১৩ই ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ ।

চিন্তা যখন চেতনার জন্ম দেয় তখনই শুরু হয় কালের যাত্রা । চিন্তা যে ভাষা জোগায় ,চেতনা সেই ভাষাকেই ভাষ্যে পরিণত করে । চিন্তা-চেতনা , ভাষা ও ভাষ্যের মুখোমুখি হবার জন্য অবশ্যই চলে আসুন , ৭-ই এপ্রিল, রবিবার ঠিক বিকাল পাঁচটায়, হাওড়া শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহে।
ইন্দ্রজিৎ ঘোষ/মানবিক নাট্যগোষ্ঠী) ৫ই এপ্রিল, ২০২৪




৭ই এপ্রিল শরৎসদনে আমাদের নাটক "মুক্তমনের মুক্তধারা" র বেশ কিছু ছবি।






















আমাদের নাটকের একটি বিশেষ মুহূর্ত দর্শকাসন থেকে নিয়েছেন অর্পন মাঝি



দর্শকাসন থেকে এক দর্শকের নেওয়া ভিডিও ক্লিপ 

দর্শকদের প্রতিক্রিয়াঃ- আমাদের প্রাপ্তি

১)
দ্রুত ওল্টাতে থাকা জীবনের মাধুকরী র ঝুলিতে একটুকরো রামধনু🌈 রঙ, "টিম মানবিক" এর অনন্য নিবেদন "মুক্তমনের মুক্তধারা"
কানায় কানায় পূর্ণ হাওড়া শরৎসদন মঞ্চ (বোধহয় দু একটি বাড়তি চেয়ার ও দিতে হয়েছিল! ) অসাধারণ এক ভালোলাগা নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। অত্যন্ত বলিষ্ঠ লেখনী এবং টিমওয়ার্ক ভীষণ ই ভালো। ছোট সদস্য দের দায়িত্ব বোধ মুদ্ধ করেছে। লেখক কে কুর্নিশ, "তুমিও মানুষ, আমিও মানুষ, তফাৎ শুধু শিরদাঁড়া য়" এর যথাযথ প্রয়োগে। প্রতিকূল পরিবেশ, পরিস্থিতি কে অতিক্রম করেও "মানবিক" জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক এই প্রার্থনা নিরন্তর। ~ সোনালী মুখার্জী, আমতা বৈঠকী আড্ডা। ৮ এপ্রিল, ২০২৪

মানবিকের পক্ষ থেকে ম্যাডামকে জানালাম অনেক অনেক ভালোবাসা ও নাট্যিক অভিনন্দন ।

২) জ্যোতিনগর বিদ্যাশ্রি নিকেতন(উ.মা )-এর শিক্ষিকা সঞ্চিতা অধিকারী ম্যাডাম মানবিক -এর প্রযোজনা মুক্তমনের মুক্তধারা দেখে তাঁর লিখিত প্রতিক্রিয়া জানালেন । মানবিকের পক্ষ থেকে ম্যাডামকে
জানালাম অনেক অনেক ভালোবাসা ও নাট্যিক অভিনন্দন । ১০ এপ্রিল, ২০২৪

মুক্তমনের মুক্তধারা :
৭ই এপ্রিল হাওড়ার শরৎসদনে মানবিকের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হল "মুক্তমনের মুক্তধারা'। এক অসাধারণ আধুনিক চিন্তাধারার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে এক নতুন নাটক । পরিচালক ইন্দ্রজিৎ ঘোষ একাধারে কবি-নাট্যকার-অভিনেতা। বর্তমান সমাজ ব্যবস্হায় রবীন্দ্রনাথের ধ্যান-ধারনার আদর্শে চলা এক প্রতিষ্ঠান তাদের সমস্ত প্রকল্প নিয়ে যখন এগোতে চায় তখনই সর্ষের মধ্যে ভুত ধরা পরে। প্রতিষ্ঠানের যারা প্রাণ তারাই একে একে বিকিয়ে যায়, টাকার লোভে বা ক্ষমতার ভয়ে।
একমাত্র এদের মধ্যে ব্যতিক্রম নন্দিনী। সে যেন সত্যিই রবীন্দ্রনাথের মানসকন্যা রক্তকরবীর নন্দিনী। একাই শেষ অবধি ভয় না পেয়ে লড়াই চালিয়ে যায় জগার বিরুদ্ধে। এক ধর্মীয় আদর্শ সামনে রেখে যারা শুধুই পয়সা কামিয়ে যায়। অবশেষে সত্যের জয়। ভয় দেখিয়ে পয়সার লোভ দেখিয়ে, শেষে আগুণ লাগিয়েও নন্দিনীর আদর্শ তারা ধ্বংস করতে পারে না।
ভালো লেগেছে নাটকের মাঝে মাঝে উপযুক্ত রবীন্দ্র নৃত্যের উপস্হাপনা। আর তার সাথে নন্দিনী র খোলা গলায় অসাধারণ কিছু গান যা নাটকের টানটান উত্তেজনার মধ্যে বিনোদনের কাজ করেছে।
নাটকের অনেক কলাকুশলী একেবারেই নতুন। কিন্ত সেটা অভিনয়গুণে কোথাও সেরকম নজরে পড়েনি। বিশেষত একেকজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী একাধিক চরিত্রের অভিনয় করেছে, তখন পেশাদার দক্ষতা বেশ প্রশংসনীয়। বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছ রত্নাকর চরিত্র এবং ডাক্তার ঢরিত্র।
সর্বোপরি নন্দিনী আর তার বিপরীতে জগা যেন দাবার গুটির সাদা কালো ছক।অসাধারণ তাদের দাপুটে অভিনয়ের যুগলবন্দী রেশ টেনে রাখে অনেকক্ষণ।
একটাই সমস্যা আমার মনে হয়েছে সেটা হল সাউন্ড সিস্টেম । প্রথম দিকের কিছু অমূল্য বক্তব্য একটু অস্পষ্ট লাগছিল। তাই ভবিষ্যতে চাইবো আরো বহু জায়গায় অনেক দর্শকদের সামনে এই নাটক আরো বার বার হোক।আমি চাইবো শুধু এটাই নয় মানবিকের প্রযোজনা আরো যে ষোলোটা নাটক আছে সেগুলোও সবাই দেখুক। মানবিক আরো উন্নতির শিখরে এগিয়ে চলুক।

৩) দীর্ঘ দিন অফিস ক্লাবে স্বদক্ষতায় দাপিয়ে অভিনয় করছেন, গ্ৰুপ থিয়েটারেও সক্রিয় থেকেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব মান্যবর সন্দীপ চ্যাটার্জী । মানবিক -এর প্রযোজনা মুক্তমনের মুক্তধারা দেখে ওনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত‌‌ করলেন সুচিন্তিত কলমে । মানবিকের পক্ষ থেকে জানালাম অনেক অনেক ভালোবাসা ও নাট্যিক অভিনন্দন । ১১ এপ্রিল, ২০২৪

গত রবিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো হাওড়া ' মানবিক ' এর প্রযোজনা ' মুক্ত মনের মুক্তধারা ' হাওড়া শরৎ সদন প্রেক্ষাগৃহ ২ এ। নাটক টি এখনকার সামাজিক প্রেক্ষাপট এ খুবই প্রাসঙ্গিক এবং নাট্যকার এর বলিষ্ঠ কলমে ফুটে ওঠা জীবন্ত দলিল। বর্তমান সামাজিক, রাজনৈতিক অধঃপতন এর বিরুদ্ধে নাট্যকার এর কলম সাবলীল ভাবে দর্শকদের সামনে হাজির করেছে নানা চেনা চরিত্র কে। ঘটনা প্রবাহ এর সাথে সাথে প্রজেকশন এর অপূর্ব মেলবন্ধন নাটক টিকে করে তুলেছে খুবই মনোগ্রাহী। এই নাটকটি এগিয়ে গিয়েছে নাটকের মূল চরিত্র ' নন্দিনী ' কে আবর্ত করে। কী অসাধারণ অভিনয় করেছেন নন্দিনীর চরিত্রে ব্রততী।
তাঁর ব্যক্তিত্ব, বলিষ্ঠ সংলাপ প্রক্ষেপণ , গান, আকুতি তিনি অপূর্ব ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর অভিনয়ে তাতে কোনো প্রশংসা ই যথেষ্ট নয়।। নন্দিনী তো শুধুই নাটকের চরিত্র নয় সব অন্যায়, অবিচার , দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এর ' প্রতীক ' । তিনি সত্যিই মঞ্চে অনবদ্য। তাঁর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সহ অভিনেতাদের অভিনয় করা টা কিন্তু সহজ নয়। তবুও সহ অভিনেতারা সকলেই খুব মানানসই ভাবেই অভিনয় করেছেন। প্রশংসা তাঁদের ও প্রাপ্য।' রত্নাকর বাবু ' বেশ সাবলীল। তাঁর অভিনয়ে একটা আলাদা মঞ্চ উপস্থিতি আছে। সংলাপ বলার ধরন টিও বেশ। মন্ত্রী মশাই ও যথাযথ। এখানকার দুর্নীতিগ্রস্থ মন্ত্রীদের দর্পণ রূপে তিনি খুবই মানানসই মঞ্চে। মাষ্টারমশাই ও বেশ। তবে ডাক্টার এর ভূমিকায় দেবদীপ যেনো একটু নিস্প্রভ। তবে চরিত্র টি কে যে ভাবে রূপ দেওয়া হয়েছে নাটকে তাতে তার সেভাবে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ ও ছিলো না। তবে অন্য চরিত্র গুলিতে নিজেকে মেলে ধরেছে সুযোগ পেলেই। যথেষ্ট দক্ষ অভিনেতা তিনি। জগাই গুণ্ডা বরাবরের মতই দারুন। তাঁর সিরিও - কমিক চরিত্র টি দর্শকদের খুবই পছন্দের। নিজস্ব mannerism দিয়ে তিনি চরিত্র টিকে জীবন্ত ও মনোগ্রাহী করে তুলেছেন।
' মানবিক ' এর সম্পদ হলো ছোটো ছোটো সদস্য যারা মন প্রাণ দিয়ে অভিনয় করেছে বিভিন্ন চরিত্রে। নাটকের মাঝে মাঝে যারা নৃত্য পরিবেশন করেছে তারাও অসাধারণ। তার মধ্যে একজন তরুণী ( নাম মনে নেই) অনেকগুলি চরিত্রে অভিনয় করে সত্যিই নজর কেড়েছে দর্শকদের।
রবীন্দ্রনাথ ও উকিলবাবুর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন তাকে আমার বেশ ভালো লেগেছে। রবীন্দ্রনাথ যথার্থ এবং উকিলবাবু খুবই সাবলীল।
এককথায় খুবই সফল ভাবে প্রযোজিত হলো ' মুক্ত মনের মুক্তধারা ' । এর জন্য যারা নাটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাঁদের প্রত্যেককে আমার উষ্ণ অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আবার আগামীর অপেক্ষায়। ধন্যবাদ।

৪) মানবিক-এর প্রযোজনা মুক্তমনের মুক্তধারা দেখে মুগ্ধমন অনুভূতির কথা জানালেন অর্পণ মাঝি
১১ এপ্রিল, ২০২৪

ছোট থেকে সেইভাবে আমি নাটক দেখিনি৷ বা দেখলেও সেটা ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে দেখেছি৷ আমার স্যার রাজকুমার ঘোষ-এর কম্পিউটার সেন্টারে এসে স্যারের এই নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত থাকা আমাকে বেশ আকর্ষিত করে। ইচ্ছা হয়েছিল "মানবিক নাট্যগোষ্ঠী"র এই নাটক "মুক্তমনের মুক্তধারা" হলে বসে চাক্ষুষ দেখার। ৭ই এপ্রিল সন্ধ্যা আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। হলে তিনঘণ্টা কিভাবে কেটে গেল জানিনা। এক আবেশের মধ্যে কাটালাম। হলে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবধারার নাটকটি আমাকে অতিশয় মুগ্ধ করেছে। ইন্দ্রজিৎ ঘোষ রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকের মূল চরিত্র রবিঠাকুরের মানসকন্যা নন্দিনী সেনগুপ্ত এই কাহিনীর প্রাণ৷ তাঁর ভূমিকা ও অভিনয়, আবেগ এবং অবশ্যই খালি গলায় অপূর্ব রবীন্দ্রসংগীত আমাকে বিস্মিত করেছে। পাশাপাশি অন্য চরিত্রের অভিনেতারা, তাদের ভূমিকা অপরিসীম। প্রত্যেকেই যেন একে অপরের পরিপূরক৷ আমার স্যার, মন্ত্রীর চরিত্রে অনবদ্য, তার চরিত্রের বিভিন্ন বিন্যাস, বৈচিত্র্য কাহিনীকে অন্যদিশায় নিয়ে যায়। জগাই গুণ্ডার চরিত্রে নির্দেশক মশাইয়ের অভিনয় বেশ মন কাড়ে। আমার বেস্ট লেগেছে। নাটকের সংলাপগুলো দারুণ। স্বপ্ন দৃশ্যে রবিঠাকুরের চরিত্র যিনি করেছেন ভীষণ সংবেদনশীল। নন্দিনী ম্যাডাম যে প্রকৃত রবীন্দ্র অনুরাগী নাটকের এই স্বপ্নদৃশ্য পর্বে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। ডাক্তার, মাস্টার, রত্নাকর তাদের ভূমিকায় যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। ভালো লাগে মঞ্চে আমার বয়সী বা তার থেকে ছোট বেশ কিছু কম বয়সীদের দাপট, চোখে পড়ার মত। জটিয়া মা, হুলো এবং পুচকেদের সাহসী অভিনয় দেখে আমি আপ্লুত৷ অবশ্যই নাটকটির মধ্যে ভরপুর অক্সিজেন সরবরাহ করেছে রবীন্দ্রনৃত্য। যারা বেশ কিছু নৃত্য পরিবেশন করে নাটকের গতিকে ত্বরাণ্বিত করেছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউসিক, স্ক্রিনের মধ্যে প্রেসেন্টেশন, সবমিলিয়ে মুক্তমনে মুক্তধারা মনের খুব কাছাকাছি স্থান অধিকার করে নিয়েছে। আবারও বলছি তিন ঘন্টার এই নাটকে আমি টানটান উত্তেজনা অনুভব করেছি। কোথাও আমি থমকে যায়নি। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নাটকের গতি অব্যাহত ছিল। আমি ভীষণ পজিটিভ মানুষ, তাই এই নাটকে নেগেটিভ দেখার মত কিছু পাইনি। হলের মধ্যে উপস্থিত দর্শকরাও যে তিনঘন্টার এই নাটক উপভোগ করেছেন বলাই বাহুল্য। নির্দেশক স্যারের মুন্সিয়ানা যে তিনি টানা তিনঘন্টা দর্শকদের নাটকটি দেখার জন্য বসিয়ে রেখেছেন। নিজের মত করে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়েছি, সময় করে স্যারের টেলিগ্রাম, হো আপে সব পাঠিয়ে দেব। আশা রাখছি মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর আগামী প্রযোজনাগুলিও খুব ভালো হবে। লিফলেট দেখছিলাম আগামীতে বেশ কয়েকটি নাটক পরিবেশিত হবে। প্রযোজনাগুলো দেখার ইচ্ছা রইল।

৫) আচ্ছা এটা তো আগেও একবার মঞ্চস্থ হয়েছিল তবে মনে হলো কিছু কিছু জায়গায় স্যার হয়তো একটু পরিবর্তন করেছেন। তাতে কিন্তু নাটকটা আগের থেকেও ভালো লাগলো। নাটক কেমন হয়েছে আর স্যার ম্যাডামদের অভিনয় নিয়ে আমার বলার স্পর্ধা নেই। তবে নতুন অভিনয় নিয়ে বলা যেতেই পারে সামান্য! সবার নাম ঠিক আমার মনে নেই... ডাক্তার,রত্নাকর বাবু, মাস্টার মশাই, মন্ত্রী মশাই এঁরা জাস্ট টু গুড। আর নৃত্য শিল্পীদের আলদা করে কিছু বলার নেই। ছোটদের মধ্যে উজান আর সোহমের অভিনয় দুর্দান্ত ছিল, বিশেষ করে উজানের। আর জগাদার দলের লেডি পান্ডা যে মেয়েটি হয়েছিল মনে হয় সুচিস্মিতা, মেয়েটির মধ্যে আলাদা একটা ব্যাপার আছে। মেয়েটি ভীষন প্রতিভাশালী। প্রকৃতির গলাটা বেশ জোড়ালো বেশ স্পষ্ট। ওভার অল ওয়াস গুড 👏🏻
~ পম্পা

৬) Ami life er first time theatre dekhlam... Ha oi light er ektu problem hoyachilo but sobar acting khub valo legache kono boring feel hoy ni.... Khola monei bolchi... Khub valo legache
~ অতনু

৭) You were outstanding in notorious character. As a doctor, so so++. Smile টা আরো ektu realistic hobe. Acting skill jothesto bhalo
Ektu experienced holei agun performance hobe..... 
Over all rating of you is 8/10
Natok ti o 8/10
Tobe Nandini aar daku bhai 10/10.
Nandini ma'am ke besh bhalo legechhe amar
As a teacher, she is perfect.
 Notorious character e ami just toke chinte parini
 Sob theke boro katha, eta amar prothom drama dekha, upset hoini ektu o, ekta alada bhalobasa toiry holo
~ প্রেমনাথ মান্না

৮) গতকালের নাটক খুব ভালো হয়েছে।বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে খুব ভালোভাবেই তুলে ধরেছেন। সমাজের দায়িত্ব আজ কিছু মূর্খ বা কিছু শিক্ষিত মূর্খের হাতে চলে যাওয়ায় আজ আমরা সামাজিক অবক্ষয়ের সম্মুখীন। আমরাও অনেকাংশেই দোষী।
~ সুব্রত মালিক।

৯) হাওড়া মানবিক কে অনেক অভিনন্দন। অসাধারণ রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। শুভ কামনা রইলো।
~ চিন্ময় কর/শিক্ষক

১০) Sedin natok dekhe eshe aar message kora hoyni. Amar first natok dekha sedin. Khub bhalo legeche. Sobai ato bhalo paat koreche specially tomake r kaku ke dekhe toh mugdho. Darun legeche😍. Porer natok hole janiyo kintu, abar jabo😊
~ দয়িতা/শিক্ষিকা

১১) হ্যাঁ ম্যাডাম গেছিলাম🌻.... আপনাদের নাটকের অনুষ্ঠান আমার খুব ভালো লেগেছে। আপনার আর দাদাভাইয়ের অভিনয়ের কোনো কথাই হবে না প্রতিবার নতুন নতুন চমক দেন আপনারা । এছাড়া প্রতিটা সদস্যদের অভিনয় খুব ভালো ছিল বিশেষ করে ছোটোদের অভিনয়। আপনাদের প্রশিক্ষণে ওরা আগামীদিনগুলিতে এরমভাবে আরও এগিয়ে যাক। আবার আপনাদের নাটকের অনুষ্ঠান হলে জানাবেন আমি অবশ্যই দেখতে যাব। 🥰🌻
~ সুচরিতা সাধুখাঁ

১২) Amra goto robibar muktomoner muktodhara natok ti dekhte giyechilm Howrah saratsadan e bikal 5 ghotikai. Natok ti puro baston sotto obolombone tairi abong protek kolakusali der ovinoi jothestho prosongsonio. Ami sokol baktider onurodh janabo somoi pele somoi thakle doya kore natok dekhun r multiplex e giye meki sajsojjar cinema k borjon korun.
~ মৌসুমী সাউ। শিক্ষিকা:-সামারিটান মিশন স্কুল (হাই)

১৩) ৭ই এপ্রিল হাওড়া শরৎ সদনে মানবিক পরিচালিত নাটক প্রথম দেখলাম। নাটকের নাম- মুক্তমনের মুক্তধারা৷ দীর্ঘ তিন ঘন্টার এই নাটক শুধু মানুষকে এন্টারটেনমেন্ট দেওয়ার জন্য তো নয়ই বরং বলা যেতে পারে এই নাটক মানুষের মনকে নাড়া দেওয়ার মত নাটক। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব অনুপ্রাণিত হয়েছি৷ আমি সিওর, হলভর্তি দর্শকের মধ্যেও আমার মতই অনুভব হয়েছে৷ প্রায় প্রতিটি দৃশ্যই দর্শকদের হাততালি পেয়েছে। মুক্তমনের মুক্তধারা নাটকটি দারুন ভাবে সফল, এটা সম্ভব হয়েছে মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিটি কলাকুশলীদের কঠিন practice এবং রেওয়াজের জন্য। আমি নিজেও একজন সাংস্কৃতিক মনষ্ক মানুষ তাই বুঝি মানুষের সামনে কোন শিল্পকলাকে প্রদর্শন করতে গেলে কতটা মেহনত করতে হয়। হ্যাটস অফ টু মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর নির্দেশক শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ ঘোষ মহাশয়কে। নাটকটি দেখার সুযোগ হয়েছিল পৌলোমিদি ও সুচিস্মিতাদির সৌজন্যে৷ নাটকটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে দেখেছি৷। একবারও ক্লান্তি অনুভূত হয়নি৷ আমি ও আমার বেশ কিছু বন্ধু তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছি এবং তিন ঘন্টা যে কিভাবে কেটে গেল বুঝতে পারেনি। স্টেজে লাইটিং এর ব্যাপারটাই শুধুমাত্র চোখে পড়েছিল এবং প্রথমদিকে সাউন্ড এর ব্যাপারটা শোনা যাচ্ছিল না৷ এবারে অভিনেতাদের প্রসঙ্গে। মানবিক এর প্রতিটি সদস্য তাদের দায়িত্বে যে যার চরিত্রগুলো সুন্দরভাবে মেলে ধরেছেন৷ মন্ত্রী, প্রোমোটার জগাই, রত্নাকর, ডাক্তার, মাস্টার এবং অবশ্যই এই নাটকের প্রাণ নন্দিনী সেনগুপ্ত - প্রত্যেকেই mind blowing। বাকি যারা আছে তারাও অসম্ভব সুন্দর প্রদর্শন করেছেন। পৌলমী দি, সুচিস্মিতা দি এবং পৌলমীদির বোনের নাচের পারফরম্যান্স অনবদ্য। সব মিলিয়ে মানবিকের এই পরিবেশনা দীর্ঘদিন মনে থেকে যাবে। আগামীর শুভেচ্ছা রইল। পরবর্তী প্রযোজনা গুলো দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম৷
~ Raktim Banerjee, Masters korche Instrumental Music er opor..

১৪) এই প্রথম কোনও হলে আমার নাটক দেখার অভিজ্ঞতা হল। এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। হলভর্তি দর্শকদের মধ্যে তিনঘন্টার এই নাটকের গতি কোনভাবেই বিঘ্নিত হয়নি৷ যাকে বলে টানটান উত্তেজনা। অভিনয়, নাচ গান ভিজুয়াল স্ক্রিন, ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে অসাধারণ পরিবেশন৷ অভিনয় প্রসঙ্গে আমি অনভিজ্ঞ। তবুও বলতে ইচ্ছে করছে, অভিনেতা অভিনেত্রীরা তাদের চরিত্রগুলো খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন৷ নন্দিনী ম্যাডাম ভেরি স্পেশাল৷ জগাই গুণ্ডা যেন বাস্তবের ভয়ংকর কোনও প্রতিরূপ। রবিঠাকুর ভীষণ মিষ্টি। এছাড়াও রত্নাকরের বৈশিষ্ট্য, মাস্টার ও ডাক্তারের ভূমিকা অনুযায়ী বেশ মানানসই।বাকি যারা অভিনয় করেছেন সকলেই ভালো করেছেন। মন্ত্রী চরিত্র নিয়ে আমার আপত্তি আছে৷ হয়তো আমার স্যারকে আমি চিনি, জানি৷ সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছেন উনি৷ বড়ই নৃশংস, শয়তান মনোভাবসম্পন্ন চরিত্র৷ আমার মনে হয় ওনাকে এই চরিত্রে মানায়নি৷ আমার ভালো লাগেনি। এ আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত৷ একমত হবেন না অনেকে৷ স্যারকে সরাসরি বলেছি। হ্যাঁ ওনার নাচ বেশ ভালো লেগেছে৷ । আবারও বলছি সমগ্র নাটকের বিষয়বস্তু প্রশংসার দাবী রাখে। তিনঘন্টা একনাগাড়ে খুব সুন্দর উপভোগ করেছি। আগামীর জন্য মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর সবাইকে আমার হার্দিক শুভেচ্ছা জানাই।
~ রিয়া দাস, স্টুডেন্ট৷

১৫)Prakriti, sedin aar message kora hoyni. Amar first natok dekha. Khub e bhalo legeche...darun experience. Sobai ato bhalo natok kore, tuio!! R uncle aunty ke dekhe toh ami sotti e mugdho❤️❤️. Maa er o bhishon bhalo legeche. Darun legeche sedin. Porer natok er opekkhay thakbo. Janash kintu.
~ Eta amar science er teacher er review

১৬) গতবার ব-এ বাজার ম-মানুষ নাটকটি আমি দেখেছি। নাটক বা যাত্রা আমার খুব প্রিয়। আমি নিজেও টুকটাক করতাম৷ কালের স্রোতে এই নাট্যশিল্প যখন মানুষের কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে, সেই জায়াগা থেকে দাঁড়িয়ে মানবিকের এমন কর্মকাণ্ড আমাকে তৃপ্তি দেয়, মুগ্ধ করে। আমার নাতি ঋষভ ও জামাই রাজকুমার ঘোষ (মন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছে) প্রথম অভিনয় করেছিল ব-এ বাজার ম-মানুষ নাটকটিতে৷ মূলত ওরা অভিনয় করছে ভেবেই এসেছিলাম৷ কিন্তু মানবিকের প্রত্যেক কলাকুশলী তথা নির্দেশক ইন্দ্রজিৎ ঘোষের প্রযোজনা তথা বাকিদের দুরন্ত পারফর্ম দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাই ইচ্ছা ছিল পরের নাটক দেখার৷ গতকাল মুক্তমনের মুক্তধারা যেন একটা মাইলস্টোন। আমার ৭৭ বছর জীবনের এমন একটি নাটক দেখে অভিভূত৷ আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্বন্ধে যতটুকু জানার জেনেছি। কিন্তু এই নাটক আমাকে অনেক কিছু জানাল৷ আজকের এই সমাজকে রবীন্দ্র চেতনা তথা আদর্শ একমাত্র সঠিক পথ দেখাতে পারে। এবারে নাটকে যারা ছিল তাদের কথায়, মন্ত্রী (আমার জামাই), ও আমার নাতিকে সরিয়ে রেখেই বলছি, ওরা এই নাট্যগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, এটাই পরম প্রাপ্তি। 
নির্দেশক মশাই (জগাই) আপনি সত্যিই অভিভূত করলেন। নন্দিনী ম্যাম যেন আইকন৷ মেন পিলার, 
রত্নাকর, ডাক্তার, মাস্টার, রবিঠাকুরের (যেগুলো মূল চরিত্র) পাশাপাশি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের গোটা নাটকজুড়ে বিচরণে খুবই আপ্লুত৷ আর আছে মঞ্চে পরিবেশিত রবীন্দ্র নৃত্য৷ যারা নৃত্য পরিবেশন করে এই উচ্চমানের নাট্য পরিবেশনে অন্য মাত্রা বহন করেছে৷। আমার অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা জানাই মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর সব্বাইকে। 
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শ্রী দিলীপ ঘোষ, পেড়ো, হাওড়া

১৭) গোটা নাটকটায় যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এই নাটকের মূল স্তম্ভ ছিল ম্যাম৷ নন্দিনী ম্যাডাম এই নাটকটি ছেয়ে গেছেন৷ গোটা নাটকটি হলের মধ্যে উপস্থিত সকল দর্শক দারুণ উপভোগ করেছেন। আমার সাথে ছিল আমার husband রাজকুমার ঘোষের (মন্ত্রীর চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন) বেশ কিছু ছাত্র ছাত্রী। তারা বলেছে স্যারের দলের পরের নাটকও দেখতে চাই৷৷ আমিও ভীষণ উপভোগ করেছি৷ হলের মধ্যে দর্শক সমাগম দেখে আপ্লুত। তিনঘন্টার নাটকে তারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন। স্যারের (ইন্দ্রজিৎ ঘোষ) কথা কি বলব, উনি গোটা নাটকের পথ প্রদর্শক। নাটকে উপস্থিত সকলেই বেশ উজ্জীবিত৷ সূচীর (জটিয়া মা) অভিনয় ভালো লেগেছে। রোহিত (রবি ঠাকুর ও উকিল), দেবদীপ (ডাক্তার), বিষ্টুদা (মাস্টার), সলিলদা (রত্নাকর), মন্ত্রী (আমার husband) কার নাম করব, সকলেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছে। স্যারের মেয়ে (প্রকৃতি)কে বেশ সাবলীল লেগেছে। এছাড়া উজান, সোহম এবং সকল কলাকুশলীদের অভিনয় স্বতস্ফূর্ত। আমার ছেলে ঋষভও অভিনয় করেছে এ নাটকে। আর যারা নাচে ছিল দুই বোন, এককথায় অনবদ্য৷ নাটকের মধ্যে অক্সিজেন সাপ্লাই করেছে প্রতিনিয়ত৷ ~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পিয়ালী ঘোষ, গৃহবধূ

১৮) সত্যি , "মুক্তমনের মুক্তধারা" রিহার্সাল দেখতে দেখতে প্রায় পুরো নাটক টাই দেখা হয়ে গিয়েছিলো। এমনকি ফাইনাল রিহার্সাল ও দেখলাম শরৎ সদনের মঞ্চে । কিন্তু একবারও ভাবতে পারিনি আপনাদের উপস্থাপনা এতো টা হৃদয় ছুঁয়ে যাবে৷ শুরু তেই বুঝলাম নাটক জমে যাবে৷ খুব ইচ্ছা ছিলো , ছেলের পার্ট টুকু অন্তত ভিডিও করবো । কিন্তু বিশ্বাস করুন ফোন এ হাত দিতে ইচ্ছা করলো না। ভাবলাম ফোনের দিকে তাকাতে গিয়ে একটা ভালো মুহূর্ত মিস করব ।
হলের ভেতরে বসে মাঝে মাঝে সব দর্শক কে লক্ষ্য করছিলাম ,আর অবাক হয়ে গেলাম, প্রত্যেকেই নাটকটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে । আপনার অভিনয় কখনো কখনো চোখে জল এনে দিয়েছে । আর আপনার গান যেন বার বার শোনার সুযোগ আসে ।
তবে মঞ্চে আর সবাইও কিন্তু খুব ভাল করে নিজে দের নিংড়ে দিয়েছে । বিশেষ করে জগাই ,রত্নাকর ,মন্ত্রী মশাই , মাষ্টার মশাই ,ডাক্তার আর জগাই এর সাগরেদ রা । অনেকবার এমন হয়েছে হাত তালি দিতে চেয়েছি কিন্তু পরের সংলাপ চাপা পরে যাবে ভেবে দিতে পারিনি ।আর অসাধারণ রবীন্দ্র নৃত্য দাদার ভাবনাকে যে ভাবে তুলে ধরেছে , সত্যিই আপ্লুত হয়ে গেলাম।
সবশেষে বলি আমার ছেলে আপনাদের পেয়ে যতটা খুশি আমরা ও ঠিক ততো টাই আনন্দিত । আর এর জন্যে আমি ওর কম্পুটার স্যার রাজকুমার ঘোষ মহাশয়ের কাছে কৃতজ্ঞ ।
ভেবেছিলাম সব কথা দেখা হলে সরাসরি বলব । কিন্তু দেরী হচ্ছে বলে লিখেই ফেললাম ।
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সুপ্রিয়া পাল, গৃহবধূ

১৯) 'মানবিক' নাট্য গোষ্ঠীর নাটক 'মুক্তমনের মুক্তধারা' গত 07/04/24 তারিখে শরৎ সদন(2) হলে পরিবেশিত হল। নাটক রচনা ও নির্দেশনা শ্রী ইন্দ্রজিৎ ঘোষ। সমস্ত অজুহাত পেছনে ফেলে নাটকটি দেখতে উপস্থিত হয়েছিলাম ।ফলাফল,অসম্ভব ভালোলাগা, বিনোদন আর সামাজিক নীতি শিক্ষা নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। নাটক দেখার সুযোগ খুব কমই থাকে, থাকলেও নানান অজুহাতে নাটক দেখা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করি। কিন্তু মানবিকের এই নাটকটি না দেখলে ভালো কিছু শিক্ষা ও ভাবনা থেকে নিজেকে সত্যিই বঞ্চিত করতাম।
বর্তমানে সময়ে যখন একদল মানুষ মিথ্যাচার আর ভন্ডামিকে হাতিয়ার করে সমাজের অলিতে গলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই সময় গুটিকয়েক সত্যবাদী, দৃঢ়চেতা ভালো মানুষ শিরদাঁড়া উঁচু করে সমাজে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এটিই ছিল নাটকের মূল ভাবনা। নাটকের শুরু থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানসকন্যা নন্দিনীর কণ্ঠে।
বিশ্বকবির চিন্তা ভাবনা কে সামনে রেখে অসম্ভব সুন্দর একটি নাট্য পরিবেশনা দেখে আপ্লুত হয়েছি। নবীন প্রবীণ সকল অভিনেতা অভিনেত্রীর অভিনয় প্রশংসার দাবী রাখে। আগামী দিনে এরকম আরো নতুন নতুন বিষয় ভাবনা নাটকের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাবে 'মানবিক' নাট্যগোষ্ঠী এই আশা অমূলক নয়। ধন্যবাদ ইন্দ্রজিৎ দা। ধন্যবাদ 'টিম মানবিক' কে।।
এই নাটকটি বিভিন্ন কারণে যাঁরা দেখতে এলেন না, পরের নাটকটি অবশ্যই দেখতে আসবেন। আসুন সবাই 'মানবিক' নাট্যগোষ্ঠীর পাশে থেকে তাদের একটু উৎসাহিত করি। 🙏
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সাতাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য সহ শিক্ষক মান্যবর সুপ্রিয় সাউ মহাশয় ।

২০) "মানবিক" নাট্য গোষ্ঠী নিবেদিত নাট্যকার ইন্দ্রজিৎ ঘোষ রচিত একটি অন্যতম নাটক "মুক্তমনের মুক্তধারা" গত ৭ই এপ্রিল,২০২৪ এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহে-২।সেখানে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।আমিও উপস্থিত ছিলাম দর্শক রূপে সেই প্রেক্ষাগৃহে। দেখতে দেখতে ৩ ঘণ্টা যে কিভাবে কেটে গেল বুজতেই পারিনি। নাটকটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনায় পূর্ণ ছিল।
নাটকটি রবীন্দ্র চিন্তা-ভাবনায় ভরপুর একটি নাটক। রবীন্দ্রনাথের মানস কন্যা নন্দিনী, এই নন্দিনী মুক্ত মনের অধিকারিনী। যেখানে সমাজের সকল মানুষ - ডাক্তার, শিক্ষক, উকিল সকলেই রাজনৈতিক দলের পা চেটে নিজেদের পুঁজিপত্তি পকেটে পুরতে ব্যস্ত, সেখানে নন্দিনী কোনকিছুতেই নিজেকে বিকিয়ে দেয়নি। এই নন্দিনী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতির বিরুদ্ধে , তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে এখনকার যুব সমাজ। তাই নাটকের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন নাট্যকার।
নাটক যার প্রধান উপজীব্য বিষয় দ্বন্দ্ব। নাটকটির মধ্যে নন্দিনীর সঙ্গে অরাজকতার দ্বন্দ্ব দেখতে পাই। "রক্তকরবী" নাটকে রবীন্দ্রনাথ যে নন্দিনীকে এঁকেছিলেন "মুক্তমনের মুক্তধারা" নাটকে সেই অবিকল হুবহু একই নন্দিনীকে পেয়েছি। যে কিনা শিকলের কড়া বাঁধন থেকে সবাই কে মুক্ত করতে চায়, এই পচা গলা রাজনীতি থেকে সকলকে বের করে আনতে চায় ।
নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্রই সজীব এবং প্রাণবন্ত। তাঁদের সংলাপের যে তীক্ষ্ণতা তারফলে চরিত্রগুলি আরও প্রাণবন্ত ও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকের অভিনয়ই প্রশংসনীয়। নন্দিনী চরিত্রের অভিনয় এবং ওঁনার মঞ্চে দাঁড়িয়ে খালি গলার গান এককথায় অনবদ্য। মন্ত্রী মশাই একদমই এখনকার দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতির সঙ্গে মানানসই ছিলেন। জগাই গুণ্ডার কিছু কিছু সংলাপ ছিল ভীষণ হাস্যকর। অথচ জগাই গুন্ডার মধ্যে যে অতিহীন নীচু মানসিকতা রয়েছে টা পদে পদে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী। ডাক্তার-মাষ্টারমশাই- রত্নাকর বাকি আরো যাঁরা সহ নাট্যকর্মীরা ছিলেন তাঁদের অভিনয়ও নজরকাড়া।
সবশেষে বলবো ইন্দ্রজিৎ ঘোষ তথা স্যার এর এরকমই ভালো ভালো উৎকৃষ্ট মানের নাটক দেখার সৌভাগ্য যেনো আমরা বারে বারে ফিরে পাই। ধন্যবাদ স্যার এতো সুন্দর একটা নাটক দেখার আমাদের সুযোগ করে দেবার জন্য।আপনাদের পরবর্তী প্রযোজনার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। ❤️
~ অভিমত নিজস্ব 🙂
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কৃতি ছাত্রী কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এম.এ পড়ুয়া সাক্ষী বাগ

২১) গত ৭ই এপ্রিল রবিবার শরৎসদনে প্রেক্ষাগৃহ ২ এ ইন্দ্রজিৎ ঘোষ রচিত ও নির্দেশিত 'মুক্তমনের মুক্তধারা' নাটকটি অভিনীত হয় l নাটক সম্বন্ধে কিছু বলার আগে প্রথমেই বলি এর আগে নাটক দেখার অভ্যাস বা সুযোগ কোনটাই আমার হয়ে ওঠেনি,,ইন্দ্রজিৎ ঘোষ স্যারের কাছে পড়ার সূত্রেই গত বছর স্যার-এর একটি নাটক '' ব এ বাজার ম এ মানুষ '' নাটকটি আমার দেখা প্রথম নাটক, গত বছরের নাটকটি দেখার পর এই বছর নাটকটি দেখতে যাওয়ার সুযোগটা আর ছাড়তে পারলাম না,তাই চলে গেলাম মানবিক নাট্যগোষ্ঠী নিবেদিত নাটক'' মুক্তমনের মুক্তধারা'' দেখতে l কিভাবে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলি ধর্মকে আশ্রয় করে বা ধর্মের বেড়াজালে সাধারণ মানুষগুলোকে আবদ্ধ করে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে চলেছে এবং সমাজের এই দুর্নীতি, অনাচার , বিকিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে নন্দিনীর মতো একটি মেয়ে যে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজের এইসব দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয় ছাত্রসমাজ তথা যুবসমাজ, তার সামনে কোনোভাবেই সমাজের এই পচা গলা দুর্নীতিপরায়ন মানুষগুলি টিকতে পারে না ,সেই চিত্রই সম্ভবত নাট্যকার ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন নাটকটির মধ্যে দিয়ে l 'মুক্তমনের মুক্তধারা' নাটকটি অভিনয়ে নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্র যথেষ্ট সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে l নাটকটির প্রত্যেকটি চরিত্রের অভিনয়ই যথেষ্ট প্রশংসনীয় lএত সুন্দর একটা নাটক আমাদের দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য নাট্যকার এবং মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর সমস্ত সদস্যদের জানাই অশেষ ধন্যবাদ l আগামী নাটকটি দেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম l সব শেষে আরো একবার ধন্যবাদ জানাই আমাদের ইন্দ্রজিৎ স্যারকে , এত সুন্দর একটি নাটক দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য l 🙏 ~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কৃতি ছাত্রী ,কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিভাগের এম.এ ক্লাসের পড়ুয়া রিয়া ঘোষ

২২) গত ৭ ই এপ্রিল নাটক দেখার অভিজ্ঞতা ছিল এক কথায় খুবই ভালো। এই দিন শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহ -২ - এ " মানবিক " নাট্যগোষ্ঠী ও নাট্যকার ইন্দ্রজিৎ ঘোষ তথা স্যার-এর পরিচালিত " মুক্তমনের মুক্তধারা" নাটকটি দেখার সুযোগ হয়। এটি নিয়ে আমার দ্বিতীয়বার নাটক দেখার সুযোগ হয়েছে। এই দুই নাটকই স্যারের পরিচালিত নাটক।এই দুই নাটকই দেখার অভিজ্ঞতা ছিল ভীষন ভালো। এই" মুক্তমনের মুক্তধারা" নাটকটি অত্যন্ত বাস্তবিক নাটক বলে আমার মনে হয়েছে, এই নাটক আমাদের দেখায় কিভাবে সমাজের উচ্চপদস্থ পুঁজিপতিরা তথা নাটকের মন্ত্রী, জগাই গুন্ডা তাদের ক্ষমতাবলে সবটুকু দখল করতে চাই এবং সমাজের মেরুদন্ড ডাক্তার, মাষ্টারমশাই, উকিল সকলকে ভয় ও লোভ দ্বারা বশীভূত করে ফেলে। কিন্তু এ নাটকের অন্যতম চরিত্র নন্দিনী যিনি মুক্তমনের অধিকারিণী ও রবীন্দ্র ভাবনায় প্রাণিত সে নিজেকে কিছুতেই বিকিয়ে দেয় না এই পুঁজিপতিদের হাতে। রবীন্দ্র ভাবনাকে প্রাণ করে একলাই সে রুখে দাঁড়ায় বিরুদ্ধপক্ষের বিপরীতে। তার সাহস ও নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এবং শেষে তার বিশ্বাস এরই জয় হয়। সব মিলিয়ে নাটকের চরিত্রদের অভিনয় ছিল খুবই প্রশংসনীয়, বিশেষত নন্দিনী চরিত্রটি ছিল আমার কাছে ছিল বিশেষ আকর্ষণীয়। সব শেষে মানবিক নাট্যগোষ্ঠী ও ইন্দ্রজিৎ স্যারকে জানায় অসংখ্য ধন্যবাদ,এমন একটি রবীন্দ্র ভাবনায় পূর্ণ নাটক দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এবং" মানবিক" নাট্যগোষ্ঠীর কাছে বিশেষ নিবেদন রইল এমনই সব সুন্দর সুন্দর নাটক উপহার দেওয়ার।❤️
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কৃতি ছাত্রী কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের এম.এ পড়ুয়া সুদেষ্ণা নস্কর

২৩) মুক্তমনের মুক্তধারা: এক নব্য ভাবনা ভোটের বাজার শুরু হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীরা আসছেন, তাঁদের নানা প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন। সাধারণ মানুষ জানে, প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই পূর্ণ হবে না। তাও, আশায় বাঁচা চাষার মতোই তোরা গিয়ে ভোটযন্ত্রের বোতাম টেপে। এইরকম এক সময়ে দাঁড়িয়ে মানবিক প্রযোজিত 'মুক্তমনের মুক্তধারা' সাধারণ মানুষের কথা বলে। নাটকের কাহিনি অনুসারে 'মুক্তমনের মুক্তধারা' একটি নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন, যা সোনাডাঙা গ্রামের মানুষদের উন্নয়নের ব্যবস্থা করছে। এ উন্নয়ন কিন্তু শুধুমাত্র কাগজ-কলম-মঞ্চ-মাইক-দেওয়াললিখনের প্রতিশ্রুতির উন্নয়ন নয়। প্রকৃতপক্ষেই গ্রামটিকে প্রকৃতিনির্ভর করে তার প্রত্যেকটি মানুষকে 'আত্মনির্ভর' (আবারও, কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয়) করে তোলার চেষ্টা করছেন এই সংস্থার পরিচালিকা নন্দিনী। তিনি রবীন্দ্রনাথের মন্ত্রে দীক্ষিতা। সেই মন্ত্রেই তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছেন। কিন্তু রাজনীতিজ্ঞদের তা সহ্য হবে কেন? একজন রাজনীতির রং না-লাগা মানুষ যদি এত উপকার করে ফেলে, তাহলে মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে কেন? নন্দিনীকে নিজেদের দলে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা ক্রমে তার সব সমর্থকদের সরিয়ে দেয় এক-এক করে। অর্থলোভ, প্রভাবশালী মানুষের সান্নিধ্যলোভ― ইত্যাদির জন্য প্রত্যেকেই যে-যার ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সরে যেতে থাকে। পড়ে থাকে নন্দিনী ও তার বন্ধু রবীন্দ্রনাথ। রঙের রাজনীতি তাকে থামানোর জন্য কসুর করে না। গুন্ডা পাঠিয়ে হুমকি দেওয়াও চলে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না। যে-কোনো বাধাসৃষ্টির অন্তিম ধাপ― ধ্বংস। মুক্তমনকে বদ্ধ করার জন্য সংস্থা ধ্বংস করেও লাভ হয় না কিছু। সাধারণ মানুষ এসে পাশে দাঁড়ায়। বেগতিক বুঝে মুক্তমনের মুক্তধারার সাদা রঙে রাজনৈতিক দল নিজেদের রং ঢেকে পাশে দাঁড়াতে চায় তাদের। কিন্তু সাধারণ মানুষই এবার আওয়াজ তোলে তাদের বিরুদ্ধে। মানুষের আত্মজাগরণই এই নাটকের মূল বক্তব্য। এই প্রযোজনায় বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে― প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে ঘটে চলা নানা অনাচার ও ছল। এই তিন ঘণ্টার নাটক কেবল দেখাই হয় না, নাটক শেষে দর্শকের কাছে খুবই পরিষ্কার হয়ে যায়, বাঁচার স্বার্থে কোন পক্ষ নেওয়া প্রয়োজন― রাজনীতিক দলের হিংসার, নাকি মানুষে-মানুষে ভালোবাসার। নাটকের সকল কলাকুশলীই ভালো অভিনেতা। কিন্তু বিশেষ করে মনে থেকে যায় রত্নাকরের চরিত্র। সে জন্য বর্তমান 'দোগলা' উঠতি রাজনীতিবিদদের অন্যতম প্রতিভূ। এছাড়া নন্দিনীর চরিত্রে ব্রততী ঘোষ, প্রমোটার-গুন্ডার চরিত্রে ইন্দ্রজিৎ ঘোষ এবং ডাক্তারের চরিত্রে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় মনে রেশ রেখে যান। পুনরায় এই নাটক মঞ্চস্থ হলে সকলকে অনুরোধ, একবার তিনটি ঘণ্টা সময় দিয়ে এই অভিনয় দেখে আসুন। ~ দীপ্তজিৎ মিশ্র, অনুবাদক, লেখক

২৪) দীর্ঘ অসুস্থতা অতিক্রম করে বিগত ৭-ই এপ্রিল শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহে "মানবিক" নিবেদিত নাট্য-প্রযোজনা "মুক্তমনের মুক্তধারা" দেখার মূল্যায়ন করতে একটু বিলম্বই করে ফেললাম।
দীর্ঘ তিন ঘন্টার এই নাটকটি আমার মতো নাট্য-প্রেমীর কাছে সমস্ত মূল্যায়নের উর্দ্ধে। বর্তমান সমাজব্যবস্থার অরাজকতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের মানসকন্যা নন্দিনীর একা রুখে দাঁড়ানোই নাটকের মূল উপজীব্য বিষয়। টান-টান উত্তেজনাপূর্ন নাটকে সময়ে সময়ে প্রাসঙ্গিক রবীন্দ্রনৃত্যের ব্যবহার নাটকের গতিকে কোথাও এতটুকু শ্লথ হতে দেয় না। নন্দিনীর মুক্তকণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান নাটকটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করে। নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্রই অত্যন্ত প্রানবন্ত। তীক্ষ্ণ সংলাপ ও অভিনয় গুনে নাটকটি হয়ে উঠেছে অনবদ্য।
সবশেষে এই নাটকের নির্দেশক স্যার কে (ইন্দ্রজিৎ ঘোষ) অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই দীর্ঘ সময় পর আমাকে আবার থিয়েটারমুখী করার জন্য। অনেক ধন্যবাদ স্যার আমাকে এই সুযোগ করে দেবার জন্য। মানবিকের পরবর্তী প্রযোজনার অপেক্ষায় থাকলাম। 🙏❤️
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সংস্কৃতি মনস্ক, থিয়েটারপ্রেমী অঙ্কিতা দে

২৫) গত ৭-ই এপ্রিল শরৎসদন প্রেক্ষাগৃহে "মানবিক" নিবেদিত নাটক "মুক্তমনের মুক্তধারা" মঞ্চস্থ হয়ে গেলো।
নাটকটি যখন প্রথম বার মঞ্চস্থ হয় তখনও আমি দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। দেখেছিলাম স্যার অসুস্থ শরীর নিয়ে কী রকম দাপটের সাথে অভিনয় করে গেলেন,কোথাও মনে হতে দেননি যে উনি একটা বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ছিলেন। 🙏🙏🙏
যাইহোক,এবারে নাটক নিয়ে যদি বলি তাহলে বলব, বর্তমান সমাজব্যবস্থার অরাজকতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের মানসকন্যা নন্দিনীর একা রুখে দাঁড়ানোই নাটকের মূল ইউএসপি। সময়ে সময়ে রবীন্দ্রনৃত্যের ব্যবহার নাটকের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে, নন্দিনীর খালি গলায় রবীন্দ্রনাথের গান নাটকটিতে আলাদাই মাত্রা যোগ করেছে। নাটকের প্রত্যেকটি চরিত্রই নন্দিনী, জগা, ডাক্তার, মাষ্টারমশাই, মন্ত্রী মশাই অনবদ্য। দীর্ঘ 3 ঘণ্টার নাটকে সকল অভিনেতা নেজার সেরা টুকু দিয়েগেছেন।"প্রকৃতির" ছোট্টো অভিনয় আমার বিশেষ ভাবে ভালো লেগেছে। ওকে আরো বেশি করে দেখতে চাই পরর্বতী প্রযোজনা গুলিতে।
অনেকে অভিনন্দন মানবিক এবং স্যার আপনাকে, আমরা যারা সিনেমা দেখতেই অভ্যস্ত তাদের কে হলে টেনে নিয়ে গিয়ে নাটক দেখানো হ্যাটস অফ 🙏🙏🙏
আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা "মানবিক" নাট্য গোষ্ঠী কে। আগামী দিনেএই ভাবেই মানবিক সকলের মন জয় করবে নিজেদের প্রযোজনা এবং অভিনয় গুন দিয়ে।
- প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মানবিক - এর নিয়মিত দর্শক ও নাট্যপ্রেমী অমিত দাস ।

২৬) ইন্দ্রজিতের সাথে আমার পরিচয় কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে এম.এ পড়ার সময়।তখন থেকেই লক্ষ্য করেছিলাম ছকে বাঁধা জীবনের বাইরে ছিল তার যাপন।আদ্যান্ত শৈল্পিক ভাবনায় জারিত ছিল তার কথন এবং চিন্তন।
দীর্ঘ বিরতির পর ৭ই এপ্রিল এ আমন্ত্রন এলো মানবিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে।টিকিট পেয়ে প্রথমেই জানতে চেয়েছিলাম "প্রবেশ মূল্য এত কম কেন?"প্রত্যুত্তর এসেছিল "মানুষকে নাট্যমুখী করাই আমাদের উদ্দেশ্য"।এই ভাবনাকে চাক্ষুষ করতেই ছুটে গিয়েছিলাম শরৎসদনে।গিয়ে সত্যিই চমকে গিয়েছিলাম,পূর্ণকক্ষ বিক্ষিপ্তভাবে দর্শক দাঁড়িয়ে। নাটকের রিভিউ বা মূল্যায়ন নয় আমার অভিজ্ঞতাটুকু ভাগ করে নিলাম।
এক মহতী প্রচেষ্টা নিয়ে অকল্পনীয় পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে চতুর্থ বার মঞ্চস্থ হল "মুক্তমনের মুক্তধারা"।এই সর্বগ্রাসী সময় ছোটদের মঞ্চে টেনে আনা এবং তাদের দিয়ে জ্বলন্ত অভিনয় ও সংলাপ উচ্চারণ সত্যই প্রশংসার দাবী রাখে।গোটা তিন ঘন্টার নাটক জুড়ে আছে রবিঠাকুর ও তার ভাবনা।প্রজেক্টারের ব্যবহার, মঞ্চসজ্জা,নৃত্য ও আবহ,তীক্ষ্ণ সংলাপ এই সকল বিষয়ের সাথে সাযুজ্য রেখে অতীত ও বর্তমানের মেলবন্ধন এই নাটককে অন্য মাত্রা দিয়েছে। প্রতিটি চরিত্র প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে আপন প্রতিভাগুণে। তাদের সাবলীল অভিনয় ও আন্তরিক নিষ্ঠা চোখে পড়ার মত।রবীন্দ্র মানসকন্যা নন্দিনী তথা ব্রততী র অভিনয় ও তার উদ্দাত্ত কন্ঠে গান এই নাটকে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।নন্দিনী ম্যাডামরা আছেন বলেই আজও আমরা স্বপ্ন দেখি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানের দৃশ্য মঞ্চস্থের সময় অডিয়েন্সকেও যখন নাটকের কুশীলব করে নেন নাট্যকার তখন কোথায় যেন অজান্তে প্রাণকে স্পর্শ করে যায় মানবিক নাট্যগোষ্ঠী।
ইন্দ্রজিৎ ঘোষ এর পরিচালনা ও নিদের্শনায় নাটকটি যে অন্যমাত্রা পেয়েছে তা এককথায় অনস্বীকার্য।সর্বোপরি নাট্যকার ও মানবিক নাট্যগোষ্ঠীর সকলের জন্য রইল আমার আন্তরিক ভালবাসা ও শুভেচ্ছা। ইচ্ছাডানায় ভর করে আরো দীর্ঘপথে উড়ান দিক এই নাট্যগোষ্ঠী। নতুন কিছু প্রযোজনার অপেক্ষায় রইলাম।
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিলজলা ব্রজনাথ বিদ্যাপিঠের শিক্ষিকা তথা বাচিক শিল্পী জয়তি মিত্র

২৭) গত ৭ই এপ্রিল হাওড়া শরৎ সদন প্রেক্ষাগৃহ -২ তে 'মানবিক' নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'মুক্তমনের মুক্তধারা' আমার দেখা প্রথম নাটক। নাট্যকার ইন্দ্রজিৎ ঘোষ রচিত একটি অনবদ্য নাটক।ছোটো থেকে আমার কোনোদিনও নাটক দেখার সুযোগ হয়নি নাটক জিনিসটা কী সেটা বইয়ের পাতাতেই একটু আধটু যা পড়া। তবে সেটা কখনোই সামনাসামনি দেখার যা অনূভুতি তা নয় আর নাটক দেখলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। আমার স্যার ইন্দ্রজিৎ ঘোষ-এর জন্যই আমি এই সুন্দর সুযোগ পেয়েছি তার জন্য প্রথমেই অনেক ধন্যবাদ স্যার আপনাকে। নাটকটি ছিল ৩ ঘন্টার কিন্তু কখন যে সময় পেরিয়ে গেল তা বুঝতেই পারি নি , প্রথমে ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ দেখে চলে আসব কিন্তু সকলের অভিনয় আটকে দিয়েছিল একেবারে। দর্শকের ভিড় ছিল দেখার মতো। নাটকটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একেবারে টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ছিল।
নাটকটি রবীন্দ্র ভাবনার নাটক। যেখানে নন্দিনী চরিত্রটি মধ্যমণি চরিত্র ছিল। নন্দিনী মুক্ত মনের অধিকারিনী। এই নন্দিনী একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্র ভাবনা কে সকলের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিল সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকা ডাক্তার,মাস্টার, রত্নাকর সকলে'ই পয়সা কাছে মাথা নত করেছে। একমাত্র এদের মধ্যে নন্দিনী যে হাজার বিপদের পরেও নিজের জায়গায় দৃঢ় ছিল। যে সকল বিপদ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সত্যে ও সততার সাথে তার লড়াই করে গেছে ।
আর আমার সব থেকে ভালো লেগেছে নন্দিনী ( ম্যাডাম-এর) খালি গলায় অসাধারণ কিছু গান যা মন ছুঁয়ে গেছে। জগাই গুন্ডার চরিত্র দেখার মতো ছিল কিছু সংলাপ হাস্যকর ছিল জগাই গুন্ডার যে নীচু মানসিকতা তা প্রতি পদক্ষেপে ফুটে উঠেছে। মন্ত্রী মশাই এখনকার সমাজের সাথে একেবারে মানানসই যে নিজের ক্ষমতার জোরে সবকিছু আদায় করতে চায় সকলে ঠিক একইভাবে ক্ষমতা ও টাকার লোভে নিজেদেরকে বিকিয়ে দিয়েছে। আর নাটকটির মধ্যে মাঝে মাঝে রবীন্দ্র নৃত্য গুলো বারবার ভালো লাগার কারণ হয়ে উঠেছে। সকলের অভিনয় ছিল চোখে লাগার মতো।
পুরো নাটকটিতে আমার সবথেকে ভালো লেগেছে নন্দিনী চরিত্রটি।
সবশেষে এটাই বলবো ইন্দ্রজিৎ ঘোষ (স্যার) পরিচালিত ও নির্দেশনায় 'মুক্তমনের মুক্তধারা' এই নাটক টি দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এত সুন্দর একটি সন্ধ্যা, একটি পরিবেশ দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ স্যার। প্রথম দেখাতেই থিয়েটারের প্রতি এক আলাদা ভালো লাগা হয়েছে । আরও অনেক নাটক দেখতে চাই আর সেগুলোও আমার মতো সকলেরই ভালো লাগবে তাও আমি জানি।
একদম নিজস্ব মতামত তাও প্রথমবার তাই কোথাও কোনো খারাপ বাক্য ব্যবহার হলে ক্ষমা করে দেবেন। 🙏🏻❤
~ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কৃতি ছাত্রী কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাম্মানিক (অনার্স) স্তরের পড়ুয়া অর্পিতা ঘোষ

Comments

Popular posts from this blog

দেবদ্রোহী মধুসূদন, ম-এ মন্থন এবং টর্চলাইট

রূপকথা ও চুপকথা এবং ভয়